বিচারক ঘেরাও, উত্তপ্ত বিক্ষোভ ও পালানোর চেষ্টায় চাঞ্চল্য মালদহে
কবিতা কীর্তনীয়া: মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়ি কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল মালদা জেলা আদালত। আগামী ১৭ এপ্রিল তাঁকে পুনরায় আদালতে তোলা হবে। এই নির্দেশের পর তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।

গত বুধবার দুপুরের পর থেকেই কালিয়াচক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, একটি বিক্ষোভ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বড় জমায়েতের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় থেকেই তিনি ভিড়কে উসকে দেন।

ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর দিক, সাতজন বিচারককে ঘিরে ফেলে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয়। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি অচল ছিল বলে জানা যায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। বিচারকদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে বিচারমহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের আগে মোফাক্কেরুল ইসলাম বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। তবে আগাম তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতে তোলার পর মোফাক্কেরুল দাবি করেন, তিনি কোনও ভুল করেননি এবং বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। যদিও অতীতে তিনি মিমের প্রার্থী ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

এদিন মালদা আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্যান্য আইনজীবীরা। তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী সওয়াল করতে এগিয়ে আসেননি। প্রকাশ্যে তাঁর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

এই ঘটনায় প্রথমে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মোফাক্কেরুলকে ধরার পর মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫-এ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এর পিছনে কোনও বড় চক্র বা পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না।
ঘটনার গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বিষয়টি দেশের শীর্ষ আদালতের নজরেও আসে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-ও ঘটনায় নেমে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শালবাড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত: পাশে পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি অরবিন্দ রায় সরকার

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এর পিছনে বড় কোনও যোগসূত্র থাকতে পারে। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, উসকানিমূলক ভূমিকার কারণেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রেফতারের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলাম, যেখানে তিনি আন্দোলনের পক্ষে সাফাই দেন। পরে সেই ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। পাশাপাশি এক মহিলা আইনজীবীর অডিও সামনে এসেছে, যেখানে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মোথাবাড়ি কাণ্ডে এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

