নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। গত শনিবার এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় কুজুর মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু তার পর থেকেই একের পর এক নতুন ঘটনায় বাড়ছে জল্পনা ও উত্তেজনা।

আজ আবার নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা গণেশ উড়াও মালবাজার মহকুমা শাসক দপ্তরে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গণেশ উড়াও নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি মনোনয়ন জমা দিতে এসেছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
একই দলের পক্ষ থেকে দু’জনের মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে তোড়াই ডুয়ার্স উন্নয়ন পার্টির নেতা রাজেশ লাকড়া জানান, তিনি শুনেছেন সঞ্জয় কুজুরের মনোনয়নপত্রে কিছু সমস্যা থাকতে পারে, যদিও তিনি এটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দাবি করেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মনোজ মণ্ডা আরও বড় অভিযোগ তুলে বলেন, সঞ্জয় কুজুরের এসটি সার্টিফিকেট ভুয়ো এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে বিহারী সম্প্রদায়ভুক্ত, তাঁর আসল নাম অজয় শাহু। তাঁর দাবি, এই সম্ভাব্য জটিলতার কথা মাথায় রেখেই দল বিকল্প হিসেবে গণেশ উড়াওকে দিয়ে মনোনয়ন জমা করিয়েছে, যাতে কোনোভাবেই আসনটি হাতছাড়া না হয়।
মনোজ মণ্ডা আরও সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো নন-এসটি প্রার্থীকে এসটি সংরক্ষিত আসনে দাঁড় করানো হয়, তাহলে এলাকাজুড়ে বড়সড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এই সমস্ত অভিযোগের জবাবে সঞ্জয় কুজুর স্পষ্টভাবে জানান, গণেশ উড়াও আলাদা করে কোনো মনোনয়ন জমা দেননি, বরং তিনি তাঁর প্রস্তাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মনোজ মণ্ডার মন্তব্য খারিজ করে দিয়ে বলেন, মনোজ মণ্ডার তৃণমূল কংগ্রেসে কোনো পদ বা দায়িত্ব নেই।
তবে গণেশ উড়াওয়ের নিজের স্বীকারোক্তি এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন জমার শেষ দিনে নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন নজর থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কাকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এবং এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।






