ভোট 2026জেলা রাজ্যদেশআন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনটেকভইরালআবহাওয়ারাশিফললাইফস্টাইল
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রী তিনি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও মালদহ সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের সমালোচনা করেছেন কোচবিহারে। আর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে না স্বপ্নার! আইনি জটমুক্ত স্বপ্না বর্মন, কমিশন দিল সবুজ সংকেত রাজগঞ্জে প্রার্থী বদলের জল্পনা, অনিশ্চয়তায় স্বপ্না বর্মণ! রাজগঞ্জের মাটির গন্ধে স্বপ্না, প্রচারে ঘরের মেয়ের ছোঁয়া মোথাবাড়ি কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলাম ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে

আর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে না স্বপ্নার! আইনি জটমুক্ত স্বপ্না বর্মন, কমিশন দিল সবুজ সংকেত

Published On:

Share

অবশেষে কাটল জটিলতা। আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারছেন স্বপ্না বর্মন। নির্বাচন কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী স্বপ্না বর্মন নির্বাচনে লড়ার যোগ্য। জল্পনা সত্যি করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন স্বপ্না বর্মন। রেলের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আজ মিটে গেল। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, স্বপ্নার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ নেই যার জন্য তিনি ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র রাতটি কেটে যাবার অপেক্ষা স্বপ্না বর্মনের।মনোনয়ন জমা দেওয়ার অপেক্ষা, তারপরই পুরোদমে প্রচার শুরু করবেন তিনি বলেই দাবি স্বপ্না অনুগামীদের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আলিপুরদুয়ার জংশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন, গত ২৭ মার্চ ২০২৬-এ তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সরকারি নিয়ম ভেঙে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।রীতিমতন দেখা যায় কলকাতার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে মন্ত্রী শশী পাজা, ব্রাত্য বসু, গৌতম দেব সহ আরো একাধিক তাবড় তাবড় রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে নিজেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেন স্বপ্না বর্মন। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরের জলপাইগুড়ি জেলায় স্বপ্না বর্মন কে নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ছিল। অনেকেই দাবি করেছিলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন সপ্না।। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার পরেই রাজনৈতিক মহল স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিল তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মানে জলপাইগুড়ি জেলার কোন একটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পদের প্রার্থী হচ্ছেন। অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনটিতে তৃণমূল সুপ্রিম তাকেই ভরসা করে প্রার্থী পথ তুলে দেন।
তারপর দেখেছিলাম একাধিক ক্ষোভ বিক্ষোভ করেছিলেন রাজগঞ্জ বিধানসভার তিনবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে তিনি দাবী করেছিলেন বিপুল ভোটে এই আসনটি হারবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দিন দুয়েক পর এই মোহভঙ্গ হয়, মুখ্যমন্ত্রীর এক ফোনেই। তারপর দেখা যায় খগেশ্বর রায় প্রাক্তন বিধায়ক রাজগঞ্জ বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত এই প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের হয়ে প্রচারে নামেন। এরপরই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে জলপাইগুড়ি বিধানসভার এবারের তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা এসসি ওবিসি ছেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের হয়ে নির্বাচনী প্রসারে আসেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতি মতন মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ ডাকেন। স্বপ্না বর্মনের নমিনেশন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তবে আইনি জটিলতা তৈরি করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। তবে আইনি লড়াইয়ে স্বপ্নাই পার্টি হবে এমন হুংকার দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে দীর্ঘ টালবাহানা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা। তারপর আবারো যেন নাটকীয় মোড় দেখা গেল জলপাইগুড়িতে। গতরাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি রেখে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেন বলে দাবি করেন তিনবারের বিধায়ক । কেননা আইনি জটিলতায় আজ মনোনয়নপত্র জমা করতে পারেনি স্বপ্না বর্মন। কার্যত সব মিলিয়ে স্বপ্না বর্মনের পরিবর্তে খগেশ্বর রায় প্রার্থী হতে চলেছে এমন গুঞ্জন গোটা দিনভর আজ চলেছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে রেলওয়ে দপ্তরের তরফে ক্লিন সিট পত্র পরিষ্কার জানিয়ে দিল প্রার্থী হতে চলেছেন স্বপ্না বর্মন এবং আগামীকাল সোমবার জলপাইগুড়ি সদ র মহকুমা কার্যালয়ে নমিনেশন প্রদান করবেন সপ্না। বলা বাহুল্য,কমিশনের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা দুর্নীতির মতো কোনো গুরুতর অভিযোগ নেই। ফলে প্রার্থী হওয়ার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না তাঁর। এই খবরে খুশির হাওয়া তাঁর অনুগামীদের মধ্যে। তবে গোটা বিষয় নিয়ে এখনো পর্যন্ত স্বপ্না বর্মন মুখ খুলতে না চাইলেও, জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে যেন এক তালবাহানা পরিস্থিতি। তবে সমস্তটাই বলবে সময়। আদতে রাজগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে হচ্ছে তা আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমা করার পরেই জানা যাবে।