ঋণের বোঝা মাথায়, ফসল নেই হাতে সংকটে ধূপগুড়ির কৃষক
সাহেনা পারভিন: সবকিছু যেন এক মুহূর্তে ওলটপালট হয়ে গেছে। চোখে মুখে শুধু দুশ্চিন্তার ছাপ, রাতে ঘুম নেই এভাবেই দিন কাটছে ধূপগুড়ির আলু চাষিদের। সামনে বিধানসভা নির্বাচন, চারদিকে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু এই দুঃসময়ে চাষিদের খোঁজ নিতে কেউ আসেনি বলেই অভিযোগ উঠছে। সাহায্য তো দূরের কথা, সহানুভূতির কথাও কেউ শোনায়নি এমনটাই জানাচ্ছেন হতাশ কৃষকেরা।

আলুর দামে ধসের আশঙ্কা চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে কৃষকদের। এখন জমি থেকে আলু তুলতেই ভয় পাচ্ছেন কৃষক।

ধূপগুড়ি মহকুমায় আলুই প্রধান চাষের ফসল। প্রতি বছর এই ফসলের উপর ভরসা করেই হাজার হাজার কৃষক সংসার চালান। কিন্তু এ বছরের বসন্ত যেন তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্বাভাবিক ও টানা বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ জলে ডুবে গেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আলুর চাষে।অনেক জমিতে দিনের পর দিন জল জমে থাকায় মাটির নিচে থাকা আলু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গাছ পচে গেছে, আলুও খারাপ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।

ফলে যেসব চাষি এখনও ফসল তুলতে পারেননি, তাদের ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, যেসব চাষি ইতিমধ্যে আলু তুলে বাড়ি বা গোডাউনে রেখেছিলেন, তারাও বিপদে পড়েছেন। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সেই আলুও পচে যাচ্ছে। ফলে একদিকে মাঠে ক্ষতি, অন্যদিকে মজুত ফসল নষ্ট দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন তারা। এবারের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে বাজার পরিস্থিতি।

চাষিরা জানাচ্ছেন, আলুর দাম এমনিতেই খুব কম, ক্রেতাও নেই বললেই চলে। ফলে যে ফসল বেঁচে আছে, সেটাও ঠিকমতো বিক্রি করা যাচ্ছে না। এই চাষের জন্য অনেকেই ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ঋণ শোধ করাই বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, প্রশাসন যদি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়ে আর্থিক সাহায্য করে, তাহলে কিছুটা হলেও তারা এই বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছেন তারা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে নির্বাচনের এই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কতটা দ্রুত সাহায্য পৌঁছবে? যদিও জানা যাচ্ছে, ব্লক কৃষি দপ্তরের তরফে শস্যবিমার ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। এখন সেই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ধূপগুড়ির চাষিরা।
