সানি রায়: রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে এখন তুমুল জল্পনা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্তে এসে কি তবে বদলে যেতে চলেছে তৃণমূলের প্রার্থী? যদিও আগেই দলের তরফে স্বর্ণপদক জয়ী স্বপ্না বর্মণের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও শোনা যাচ্ছে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে কিছু জটিলতা।
মূল সমস্যা নাকি নথিপত্র ঘিরে। জানা যাচ্ছে, রেল দফতরের প্রয়োজনীয় কাগজ এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। আর আগামীকালই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব নথি না এলে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছেন প্রাক্তন বিধায়ক খাগেশ্বর রায়। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাঁকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, “শুক্রবার ফোন করে কাগজপত্র তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। কাল মনোনয়নের সময়ই সব পরিষ্কার হবে।”
উল্লেখ্য, স্বপ্না বর্মণের নাম ঘোষণার পর কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন খাগেশ্বর রায়। যদিও পরে শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে সেই সময় তাঁর মধ্যে তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি। এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করায় তাঁর গলায় ফের আত্মবিশ্বাসের সুর তিনি আশাবাদী, সুযোগ পেলে বড় ব্যবধানে জিতবেন।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও এই ইস্যুতে সরব। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। যদিও স্বপ্না বর্মণের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তারা এটিকে পুরোপুরি প্রযুক্তিগত বিষয় বলেই মনে করছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সব কিছু হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চাকরি ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও সহজ নয় বলে মত বিজেপি নেতাদের। তাঁদের মতে, সরকারি চাকরি ছাড়তে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হয়, এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র (NOC) পেতেও অনেক সময় জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

এদিকে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, বিষয়টি আইনি হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই নথি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে যাতে প্রার্থী সমস্যায় পড়েন। দলের আইনজীবীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শেষ মুহূর্তে রাজগঞ্জে প্রার্থী নিয়ে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর সোমবারের দিকে সেদিনই স্পষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত কে জমা দিচ্ছেন মনোনয়ন এবং কার হাতেই যাচ্ছে রাজগঞ্জের লড়াই।






