বাবলু রহমান: জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভাকে ঘিরে ভোটের (vote) আগেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দলের ঘোষিত প্রার্থী হারাধন সরকারকে (Hardam Sarkar ) ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মীদের একাংশ।

কর্মীদের অভিযোগ, নিচুস্তরের নেতৃত্ব বা কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে। ফলে দলীয় অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। এই ক্ষোভই সম্প্রতি বিক্ষোভের রূপ নেয়। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর (Bappy Goswami) বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান একদল কর্মী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কর্মীদের মধ্যেই ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে জেতা কঠিন। তাঁদের মতে, প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে স্থানীয় সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজবংশী (Rajbongshi) সম্প্রদায়ের কাউকে প্রার্থী না করায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

এক বিক্ষোভকারী জানান, “আমরা আগেরবার হেরেছি, তারপরও ঝুঁকি নিয়ে দল করছি। তাই প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা শোনার সুযোগই দেওয়া হল না।” আরেকজনের অভিযোগ, “এখানে এসে আমাদের ‘গো ব্যাক’ বলা হয়েছে, এমনকি হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

তবে এই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজেপি নেতা বাপি গোস্বামী। তাঁর দাবি, এই বিক্ষোভ আসলে সাজানো এবং এর পেছনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তাঁর কথায়, “বিজেপির নামে ভুয়ো বিক্ষোভ দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আগেই তৃণমূলের বিভিন্ন গ্রুপে এই বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, যা প্রমাণ করে এটা পরিকল্পিত।

”অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের স্থানীয় নেতা কৃষ্ণ দাস (Krishna Das) বলেন, “তৃণমূল কখনও কারও উপর অত্যাচার করে না। বিজেপির ভিতরেই সমস্যা, তাই তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।”

এদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব তৃণমূলের পক্ষে বড় সুবিধা হতে পারে। রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে রাজগঞ্জ বিধানসভায় রাজনৈতিক লড়াই এখন দ্বিমুখী একদিকে বিজেপির অন্দরের ক্ষোভ ও বিভাজন, অন্যদিকে তৃণমূলের বাড়তি আত্মবিশ্বাস। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


