সাহেনা পারভীন: উত্তরবঙ্গ জুড়ে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে ধুমধাম করে পালিত হল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। টানা ৩০ দিনের রোজা শেষে এই খুশির উৎসবে মেতে উঠলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। শুধু তাই নয়, এই আনন্দে শামিল হন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও।

প্রতিবছর কখনও ২৯, কখনও ৩০টি রোজা পূর্ণ হওয়ার পর ঈদ উদযাপন করা হয়। এ বছর পূর্ণ ৩০টি রোজা শেষে পালিত হল ঈদ। তাই উৎসবের আনন্দ যেন ছিল একটু বেশিই।

উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় এদিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। নতুন পোশাক পরে ছোট থেকে বড় সবাই ভিড় জমান ঈদগাহ ময়দানে।

ইসলামপুর-এ দেখা যায় এক সুন্দর দৃশ্য মুসলিম মহিলারাও ঈদের নামাজ আদায় করেন। একইভাবে আলিপুরদুয়ার জেলার শিশুবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকাতেও মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের নামাজ শেষে সবাই একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানান। ঈদের মাঠে ছোট ছোট কচিকাঁচাদের আনন্দ ছিল দেখার মতো।

এই দিনে যেন সব অভিমান, মনোমালিন্য দূরে সরে যায় শত্রুও বন্ধু হয়ে ওঠে, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা আর সম্প্রীতির বার্তা। উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রতিটি ঈদগাহ ময়দানে পুলিশ মোতায়েন ছিল, যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সার্বিকভাবে খুব শান্তিপূর্ণভাবেই ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এদিন আবহাওয়া কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাতভর বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় ঈদগাহ ময়দান ভিজে যায়। ফলে কিছু জায়গায় খোলা মাঠের বদলে মসজিদের সামনে ফাঁকা জায়গায়, টিনের ছাউনির নিচে বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় নামাজ আদায় করতে দেখা যায় মুসল্লিদের।

কোথাও কোথাও ঈদ উপলক্ষে প্যান্ডেল তৈরি করা হলেও, অনেক এলাকায় বৃষ্টির কারণে তা সম্পূর্ণভাবে সাজানো সম্ভব হয়নি। তবুও মানুষের উৎসাহে কোনও কমতি ছিল না। ছোট ছোট উদ্যোগে কাগজ দিয়ে বানানো রঙিন ফুল, ত্রিভুজাকৃতি সাজসজ্জা ও গেট দিয়ে এলাকাগুলিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, কিছু বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গ জুড়ে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশেই পালিত হল ঈদ-উল-ফিতর। এই উৎসব আবারও প্রমাণ করল সম্প্রীতি আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।






