বাবলু রহমানঃ রাজগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের সভা ঘিরে এদিন কার্যত জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) প্রার্থী স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman-) এর সমর্থনে প্রচারে এসে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বার্তা—দুই দিকই জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন।

সভা মঞ্চ থেকে তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং “১০ প্রতিজ্ঞা”-র মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা স্পষ্ট করেন। একইসঙ্গে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “শিক্ষিত যুবকদের কোনও স্থান নেই। মত মাতাল, চিটিংবাজ, চোরেদের দল বিজেপি।”
এদিন তিনি রাজগঞ্জ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নির্বাচন শেষের ছয় মাসের মধ্যে একটি ফায়ার ব্রিগেড চালু করা হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে জমি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধার জন্য একটি হিমঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।

বার্ধক্য ভাতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অভিষেক। তাঁর আশ্বাস, যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁদের সকলকেই ভাতা দেওয়া হবে। কেন্দ্র সরকার অর্থ না দিলেও রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া সকলের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থার কথাও বলেন।
সভা থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—আগামী নির্বাচনে স্বপ্না বর্মনকে অন্তত ৪০ হাজার ভোটে জয়ী করতে হবে। তাঁর দাবি, স্বপ্না জয়ী হলে প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করা হবে এবং তিনি অভিভাবকের মতো পাশে থাকবেন।

অন্যদিকে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, এর আগেই তৃণমূল প্রার্থীদের সতর্ক করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন তিনি দাবি করেন, স্বপ্না বর্মন যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারেন, সেই চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তৃণমূলকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি রাজগঞ্জে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ চালুর বিষয়টিকে বড় সাফল্য বলে দাবি করেন। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, এখানে “বহিরাগত” প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এদিনের সভা ঘিরে রাজগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।


