কবিতা কীর্তনীয়া: মালদায় নির্বাচনী সফরে এসে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চন্দনা সরকারের সমর্থনে চৌরী অনন্তপুরের আইটিআই মাঠে এই সভার আয়োজন করা হয়। যদিও তাঁর আসার কথা ছিল দুপুর তিনটায়, তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই পৌঁছে যান এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য রাখেন।

ভাষণের শুরুতেই তিনি মালদার (Malda) মানুষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসআইআর শুরু হওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হলেও তখন তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)-এর কর্মীরাই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্য দলগুলোকে দেখা যায়নি।

ভোটের আগে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় ক্ষোভ আছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, মালদহ (Malda), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur), বসিরহাট (Basirhat)-সহ বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পনা করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-কে দায়ী করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এই নিয়ে তিনি রাস্তায় আন্দোলন করেছেন, এমনকি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)-এ মামলা করেছেন। তাঁর কথায়, বহু মানুষের নাম ইতিমধ্যেই তালিকায় ফিরেছে, আর যাদের এখনও ওঠেনি, তাঁদের আবেদন করার পরামর্শ দেন।

সভা থেকে তিনি কড়া বার্তা দেন—কোনও রাজনৈতিক দল যেন বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি না করে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল বিজেপির টাকায় চলছে এবং সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংখ্যালঘুদের কথা বললেও কঠিন সময়ে তারা পাশে দাঁড়ায় কি না।
কংগ্রেস (Indian National Congress)-কেও তিনি কটাক্ষ করেন, বলেন ভোটের সময় ছাড়া তাদের দেখা যায় না। তবে এর পরেও মালদায় উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।

সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বাড়ানোর কথা বলেন এবং জানান, যারা এখনও পাননি, তারাও শিগগিরই পাবেন। যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।

শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-কে নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপির প্রভাবে কাজ করছে এবং রাজ্যের উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।


