রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা গৃহীত না হওয়া এবং চলতি বিভাগীয় তদন্তের জেরে নির্বাচনের আগে প্রার্থীপদ নিয়েই অনিশ্চয়তায় প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ।

বাবলু রহমানঃ ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, অনেক সময় আইনি জটিলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ।

খেলাধুলার জগৎ থেকে রাজনীতিতে নতুন ইনিংস শুরু করলেও, শুরুতেই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়। মাঠে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার পর এবার ভোটের ময়দানেও নিজেকে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই সামনে আসে বড়সড় জটিলতা।

আলুর দামে ধসের আশঙ্কা চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে কৃষকদের। এখন জমি থেকে আলু তুলতেই ভয় পাচ্ছেন কৃষক।

মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁর রেলের চাকরি ঘিরে। জানা গেছে, তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেও এখনও সেই ইস্তফা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি আদৌ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত আরও আগে। অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থাতেই তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রেলের নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এরপর ১৬ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা জমা দেন। কিন্তু তদন্ত চলতে থাকায় সেই ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠায় দেরি না করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

আদালতে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটি শর্ত রাখা হয়েছে—যদি তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে রেলের কোনও অবসরকালীন সুবিধা দাবি না করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে বিষয়টি নতুন করে ভাবা হতে পারে।

আদালতও রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে সেই নির্দেশ অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ মার্চ।

সব মিলিয়ে, এক সময় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দেশের নাম উজ্জ্বল করা স্বপ্না বর্মণ এখন এক অন্য লড়াইয়ের মুখে। এবার সেই লড়াই আইনের ময়দানে—আর সেই ফলাফলই ঠিক করে দেবে, তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে নামতে পারবেন কি না।

