রী সরকার: শিলিগুড়িতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সত্ত্বেও এক শিক্ষককে নির্বাচনী দায়িত্বে ডাকার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিলিগুড়ির মুন্সি প্রেমচাঁদ মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক জগদীশ রায়। তিনি চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সমন্বয়নগরের বাসিন্দা এবং একজন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যও। তাঁর দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকা (SIR) থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই তিনিই আবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘থার্ড পোলিং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নোটিস পেয়েছেন।

জগদীশ রায় জানান, “একদিকে আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, অন্যদিকে আমাকে আবার ভোটের কাজ করতে বলা হচ্ছে। তাহলে আমি কি এই দেশের নাগরিক নই?” তাঁর এই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

তিনি আরও বলেন, তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে। ফলে তাঁর নাম বাদ পড়াকে তিনি “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলেই মনে করছেন। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

আগামী রবিবার তাঁর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি দোলাচলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জানিয়েছেন, তিনি প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁর কথায়, “না গেলে নির্বাচন কমিশন শোকজ করতে পারে, তাই যাওয়াই ঠিক মনে করছি।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী ঘটছে?

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে তালিকা সংশোধনের ফলে বহু মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেই দাবি করছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


