আলু চাষীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস। উন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী; পাশাপাশি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ।
বাবলুর রহমান, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচারের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে উন্নয়নকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ময়নাগুড়ির উন্নয়নে কী কী কাজ হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। এরপর নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, মাঝরাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে, সংবিধান মানা হচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রার্থী পদে বাধা স্বপ্না

বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন ততদিন এনআরসি চালু করে ডিটেনশন ক্যাম্প গড়তে দেবেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বাড়িতে পাকা ঘর, স্কুটি বা টিভি থাকলেই আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এর বিপরীতে রাজ্য সরকার সকলকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে এবং যতদিন জীবন থাকবে ততদিন এই সুবিধা মিলবে।

চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য পাট্টা, রেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প সম্পূর্ণ রাজ্যের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, আমরা জীবন গড়ে তুলি।” গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষীদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাঁদের ক্ষতি হয়েছে তাঁদের বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাইরে থেকে লোক এনে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে মহিলাদের এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মাছ-মাংস খাওয়া নিয়েও বাধা দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো পোশাক নিয়েও নির্দেশ আসতে পারে। তিনি বিজেপিকে “অ্যান্টি-বাংলা” বলেও কটাক্ষ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করেন, তবে “মানুষের শক্তিই আসল শক্তি।” সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রার্থীকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেন। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। “আমি কম বলি, বেশি কাজ করি,”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন তিনি এবং বিজেপিকে “বসন্তের কোকিল” বলে কটাক্ষ করে বলেন, তারা শুধু নির্বাচনের সময়ই দেখা দেয়।

