সাহেনা পারভীন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ফের তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একসময় বিজেপির দখলে থাকা এই কেন্দ্র কি আবার গেরুয়া শিবিরের হাতে ফিরবে? নাকি তৃণমূল কংগ্রেসই নিজেদের দখল ধরে রাখতে পারবে এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে ছিল। তবে বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায়ের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ধূপগুড়ি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এদিন ধূপগুড়ির ঠাকুরপাঠ এলাকার ফোনির মাঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী সভা করছেন, এই মাঠ থেকেই ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন ধূপগুড়িকে মহকুমা করা হবে। নির্বাচনে জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় এবং ধূপগুড়ি মহকুমা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পায়।

ফলে ধূপগুড়ির মানুষের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং পুরনো প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নের দাবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলেই মনে করা হয়। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ২০২৬-এর নির্বাচনে ধূপগুড়ি আসন পুনর্দখলে মরিয়া বিজেপি। ইতিমধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক হেভিওয়েট নেতার সভা ও কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

গেরুয়া শিবির এই আসনকে ‘ফেরত আনার লড়াই’ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ধূপগুড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা থেকে ধূপগুড়ি বিধানসভায় কি কাজ হয়েছে তা তুলে ধরে তবে নতুন করে কিছু ঘোষণা না করায় যেন অনেকটাই মনক্ষুণ্ণ হয় ধূপগুড়িবাসী।

তবে দলের সেনাপতির কাছ থেকে বার্তা পেয়ে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। এখন এটাই দেখার এই এই কেন্দ্র কি আদৌ তৃণমূল ধরে রাখতে পারে নাকি আবারও পদ্ম ফুল ফুটে চলেছে।

