Hotভোট 2026
জেলা রাজ্যদেশআন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনটেকভইরালআবহাওয়ারাশিফললাইফস্টাইল
ব্রেকিং নিউজ
আইআইটি থেকে ‘আইআইটি বাবা’! হিন্দু ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে তরুণীদের শোষণ, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, গ্রেফতার মথুরায় স্বপ্নভাঙার গল্প: অত্যাচারের সংসার ছেড়ে কন্যাকে নিয়েই নতুন লড়াই দীপার মুম্বাইকে হারিয়ে প্লে অফ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কেকেআর শহিদ পরিবারে চাকরি, প্রথম ইনিংসেই ‘গোল’ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরামের কোচবিহারে ফের গ্রেফতার তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল কাদের হক

আইআইটি থেকে ‘আইআইটি বাবা’! হিন্দু ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে তরুণীদের শোষণ, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, গ্রেফতার মথুরায়

Published On:

Share

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি রুরকি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছিলেন। সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই শিক্ষিত ব্যক্তিই পরে নিজেকে হিন্দু ধর্মীয় গুরু ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে একাধিক তরুণীকে প্রতারণা, শোষণ এবং ব্ল্যাকমেলের জালে ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের মথুরা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম অভিষেক মিশ্র। তিনি নিজেকে ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ নামে পরিচয় দিতেন। ওড়িশার বাসিন্দা অভিষেক ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইআইটি রুরকিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি উত্তরপ্রদেশের মথুরার রাধাকুণ্ড এলাকায় বসবাস শুরু করেন এবং নিজেকে হিন্দু ধর্মীয় গুরু ও আধ্যাত্মিক বক্তা হিসেবে প্রচার করতে থাকেন।তদন্তে জানা গিয়েছে, ‘রাধা কৃপা অমৃত’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতেন তিনি। ধর্মীয় আলোচনা, ভাগবত পাঠ, কৃষ্ণভক্তি এবং আধ্যাত্মিক উপদেশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবক-যুবতীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন।পুলিশের অভিযোগ, বিশেষ করে শিক্ষিত ও কলেজপড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করা হতো। প্রথমে ধর্মীয় শিক্ষা, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা বলে তাঁদের আস্থা অর্জন করা হতো। এরপর ধীরে ধীরে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে সরে আসতে মানসিকভাবে প্রভাবিত করা হতো। অনেককে মথুরায় তাঁর আশ্রমসদৃশ আবাসনে নিয়ে আসা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে তরুণীদের তথাকথিত ‘গান্ধর্ব বিবাহ’-এর প্রস্তাব দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সম্পর্কের আড়ালে শারীরিক শোষণ চালানো হতো। আরও অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রসাদের নামে নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানো পানীয় খাইয়ে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের বিভিন্ন মুহূর্ত গোপনে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে রেকর্ড করা হতো এবং পরে সেই ছবি-ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হতো বলে অভিযোগ।ঘটনার সূত্রপাত হয় ছত্তিশগড়ের এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে। ওই তরুণী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান যে, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এরপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তের আশেপাশে একসময় প্রায় ২৪ জন তরুণ-তরুণী বসবাস করতেন। তাঁদের অনেকের পরিবারের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, আরও বহু তরুণী এই চক্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বর্তমানে সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অভিষেক মিশ্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেল, অপরাধমূলক ভয় দেখানো-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।এই ঘটনা সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে ব্যবহার করে কীভাবে কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনত দোষী বলা যাবে না।