সানি রায়, জলপাইগুড়ি : মেখলিগঞ্জে নতুন বিধায়ক(MLA) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বড় সাফল্য এনে দিলেন দধিরাম রায়। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন তিনি। আর সেই বৈঠক থেকেই মিলল বড় সুখবর শহিদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস। বুধবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় তিনবিঘা আন্দোলনের সময় শহিদ হওয়া পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, বহু বছর কেটে গেলেও ওই পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। আন্দোলনের সময় যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের পাশে সরকারকে দাঁড়ানোর আবেদন জানান তিনি। বৈঠক সূত্রে খবর, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্রতিটি শহিদ পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কোচবিহারের জেলাশাসককেও এ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই খুশির হাওয়া তিনবিঘা ও মেখলিগঞ্জ জুড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বীকৃতি ও স্থায়ী সহায়তার আশায় থাকা পরিবারগুলোর মুখে এখন স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

বিধায়ক দধিরাম রায় বলেন, তিনবিঘা আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলোর কথা আমি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছিলাম। তাঁদের বর্তমান অবস্থা খুবই কষ্টের। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং দ্রুত সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলাশাসকের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনবিঘা করিডর হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলেছিল মেখলিগঞ্জ এলাকায়। সেই আন্দোলনে প্রাণ হারান তিনজন। ১৯৮১ সালে শহিদ হন সুধীর রায়। পরে ১৯৯২ সালের আন্দোলনে প্রাণ হারান ক্ষীতেন অধিকারী ও জীতেন রায়। আন্দোলনের সময় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতি আজও ভোলেননি এলাকার মানুষ। বছরের পর বছর কেটে গেলেও শহিদ পরিবারগুলোর অনেকেই আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যাঁরা আন্দোলনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়াক। এবার সেই দাবি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষ। শহিদ সুধীর রায়ের ছেলে ভূপেন রায় জানান, এত বছর পর আমাদের কথা কেউ গুরুত্ব দিয়ে শুনল। চাকরির আশ্বাস পাওয়ায় আমরা খুব খুশি। একইভাবে ক্ষীতেন অধিকারীর স্ত্রী আরতী অধিকারীও বলেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এবার মনে হচ্ছে সত্যিই কিছু হতে চলেছে। মেখলিগঞ্জের সাধারণ মানুষও নতুন বিধায়কের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। ভোটে জেতার পর প্রথম বড় প্রশাসনিক বৈঠকেই এলাকার পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরে সমাধানের পথে এগোনোয় দধিরাম রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নতুন বিধায়ক প্রথম ম্যাচেই যেন ‘গোল’ করে দিলেন।




