Hotভোট 2026
জেলা রাজ্যদেশআন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনটেকভইরালআবহাওয়ারাশিফললাইফস্টাইল
ব্রেকিং নিউজ
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট, ফুঁসছে নদী-নালা; ভাঙন ও প্লাবনে বাড়ছে উদ্বেগ। টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। মূর্তি নদীর ভাঙন রোধে পানঝোরায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা-সহ একাধিক নদীতে সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আইআইটি থেকে ‘আইআইটি বাবা’! হিন্দু ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে তরুণীদের শোষণ, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, গ্রেফতার মথুরায় স্বপ্নভাঙার গল্প: অত্যাচারের সংসার ছেড়ে কন্যাকে নিয়েই নতুন লড়াই দীপার মুম্বাইকে হারিয়ে প্লে অফ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কেকেআর শহিদ পরিবারে চাকরি, প্রথম ইনিংসেই ‘গোল’ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরামের

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট, ফুঁসছে নদী-নালা; ভাঙন ও প্লাবনে বাড়ছে উদ্বেগ। টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। মূর্তি নদীর ভাঙন রোধে পানঝোরায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা-সহ একাধিক নদীতে সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

Published On:

Share

বাবলু রহমান, জলপাইগুড়ি: বর্ষা যেন এ বছর শুরু থেকেই নিজের রুদ্ররূপ দেখাতে শুরু করেছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। কোথাও নদী ভাঙনে বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কা, কোথাও আবার নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্স, কালিম্পং থেকে উত্তর সিকিম সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, নদীর বাড়তে থাকা জল আর তার ভয়াবহ প্রভাব। সোমবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার চালসা সংলগ্ন পানঝোরা এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে মূর্তি নদীর ভাঙনে এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান না হওয়ায় এদিন চালসা-নাগরাকাটা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই মূর্তি নদী একটু একটু করে পাড় ভাঙছে। নদীর ধারে থাকা বহু পরিবার বছরের পর বছর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার টানা বৃষ্টির পর নদীর স্রোত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। নদীর মূল ধারা এখন জনবসতির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে যেকোনও সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে এলাকার মানুষ একজোট হয়ে মূর্তি সেতুর কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ। এর জেরে জাতীয় সড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়েন অফিসযাত্রী, স্কুল পড়ুয়া, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষ। অনেককে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাগরাকাটা থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত নদী ভাঙন রোধের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা। যদিও এলাকার মানুষের বক্তব্য, শুধু আশ্বাসে আর ভরসা নেই, এবার দ্রুত কাজ শুরু হোক সেটাই তাঁদের প্রধান দাবি। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে জলপাইগুড়ি জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকেই জেলার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তার সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে থাকে। ফলে বিভিন্ন নিচু এলাকায় জল জমতে শুরু করেছে। বহু এলাকায় রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে আতঙ্ক আরও বেশি। কারণ বৃষ্টির জেরে তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মেখলিগঞ্জের তিস্তা অববাহিকার অসংরক্ষিত এলাকায় ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু তিস্তাই নয়, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন জলঢাকা নদীর তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকাগুলিতেও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে খবর, গজলডোবা ব্যারেজ থেকে পর্যায়ক্রমে জল ছাড়া হচ্ছে। ফলে নদীর জলস্তর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকেও।এদিকে উত্তর সিকিমের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মঙ্গন জেলায় টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের ফলে তিস্তা নদী কার্যত উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল নামার কারণে নদীর জল বিপদসীমার অনেক উপরে পৌঁছে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলাতেও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তার প্রবল স্রোত রবি ঝোরা এলাকা অতিক্রম করে সরাসরি দার্জিলিং রোডের উপর আছড়ে পড়েছে। এর ফলে তিস্তা রোডের একাংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। নদীর জল ও ভাঙনের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। কালিম্পং জেলার তিস্তা বাজার সংলগ্ন নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেসব পরিবার নদীর খুব কাছাকাছি বসবাস করেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ইতিমধ্যেই মানুষ নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে টোটগাঁও এলাকায় তিস্তার ভয়ংকর রূপ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর জল ও ভাঙনের আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডুয়ার্সের অবস্থাও কম উদ্বেগজনক নয়। ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে একের পর এক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। নাগরাকাটা ব্লকের বহু এলাকা ইতিমধ্যেই সুখানী নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোর্সা, কালজানি, ডিমা ও বসরা নদীর জলস্তরও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নদীগুলির ফুলেফেঁপে ওঠা জল আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। কৃষিজমি, চাষের ক্ষেত এবং নিম্নাঞ্চলগুলিতে জল ঢুকে পড়ায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নেওরা, চেল এবং ঘিস নদীতেও একই পরিস্থিতি। নদীগুলির স্রোত এখন অত্যন্ত প্রবল। নদীর ধার ঘেঁষে থাকা পরিবারগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাগরাকাটার লুকসান এলাকার কালীখোলা নদীও এখন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর জল এতটাই বেড়েছে যে কিছু এলাকায় সেতুর উপর দিয়েই জল বইতে শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এদিকে জলপাইগুড়ি জেলার তিস্তা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। দোমহনী থেকে শুরু করে মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত নদী তীরবর্তী বহু এলাকায় লাল সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর ধারে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। নদীর ধারে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও নদীতে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে এখন বর্ষার দাপটে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর বাড়ছে, কোথাও ভাঙন, কোথাও প্লাবন, আবার কোথাও মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কা। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখলেও প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা বৃষ্টি কমুক, নদীর জল নামুক, আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক উত্তরবঙ্গের জনজীবন।