সাহেনা পারভিন, ধূপগুড়ি: আলুর দাম নিয়ে দুঃচিন্তায় বাড়ছে কৃষকদের। এমনকি আলু তোলার সময় হয়ে এলেও আলু তুলতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, প্রতি বছর এই সময় মাঠেঘাটে অনেক আলু পাইকার দেখা গেলেও এবছর কার্যত আলু তোলার সময় আসলেও এখনও পাইকার দেখাই যাচ্ছে না। যে সমস্ত পাইকার রয়েছে তারা আলু কিনতে চাইছে না। এই দুই পরিস্থিতির মাঝে পড়ে চিন্তায় কৃষকরা।
প্রসঙ্গত উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবথেকে বেশি আলু হয়ে থাকে ধূপগুড়িতে। গত বছর জলপাইগুড়ি জেলায় প্রায় ৩,৬০৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল এবং সেখান থেকে প্রায় ৭৪,০৯৪ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই ধুপগুড়িতে। এই আলুর উপর নির্ভর করেই ধূপগুড়ির ব্যবসা সহ প্রত্যক্ষভাবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে ও টাকা আসে।
কিন্তু গত বছর শুরুর দিকে আলুর দাম থাকলেও শেষের দিকে একেবারেই আলুর দাম ছিল না। এবছর জ্যোতি আলু তোলা শুরু হলেও এক গাড়ি আলু ( ১০ হাজার কেজি) দাম ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ইতিমধ্যেই পোখরাজ আলু তোলা শুরু হয়েছে কিন্তু দাম ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা।

আর এই দামে আলু বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা লোকসানের মুখ গুনতে হবে বলে দাবি কৃষকদের। মাগুরমারী ২ এর কৃষক দেবাশীষ রায়, রাজিউল ইসলাম বলেন, যে হারে আলুর বীজ এবং সারের দাম বেড়েছে। এই দামে আলু বিক্রি করলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছুই পথ থাকবে না। তবে আলু কেন এই দাম।
উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য বাবলু চৌধুরী বলেন, গত বছর থেকেই আলুর দাম নিয়ে সমস্যা চলছে। একটি বাইরের রাজ্যে আলু যাচ্ছে না। আসাম নিজেই আলু উৎপাদন শুরু করেছে। প্রতিবছর এই সময়ে বাইরে রাজ্যের ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে ধুপগুড়ির ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করলো এ বছর এখনো পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। তাই আলুর দাম কি হবে তা বলাই যাচ্ছে না।
