রেঞ্জ অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের নামে কাঠ ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়িতে। অভিযুক্ত বন দফতরের এক মহিলা বিট অফিসার। ঘটনার প্রতিবাদে রেঞ্জ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে কামাখ্যাগুড়ির বাংলা চৌপথী সংলগ্ন এলাকা থেকে কাঠ বোঝাই একটি ভুটভুটি আটক করে বন দফতরের কামাখ্যাগুড়ি মোবাইল (ইস্ট) রেঞ্জ। ওই ভুটভুটিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী নারায়ণ রায়ের জোতকাঠ ছিল বলে জানা যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার নারায়ণ রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেঞ্জ অফিসে ডাকা হয়। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কামাখ্যাগুড়ি মোবাইল (ইস্ট) রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার শাহ এবং কোচবিহার জেলার আটিয়ামোচর বিটের বিট অফিসার পাঞ্চালি রায়।

অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে রেঞ্জ অফিসারের নির্দেশেই বিট অফিসার পাঞ্চালি রায় লাঠি দিয়ে নারায়ণ রায়কে বেধড়ক মারধর করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার বিকেলে রেঞ্জ অফিসে জড়ো হন সারা বাংলা জোতকাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। রেঞ্জ অফিস ঘেরাও করে শুরু হয় বিক্ষোভ। মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কামাখ্যাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। জোতকাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হায়দার আলি অভিযোগ করে বলেন,
“বন দফতর আমাদের মতো সাধারণ জোতকাঠ ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি করছে। গতকাল এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদেই আমরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছি।”

অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যবসায়ী নারায়ণ রায়ের দাবি, “যে ভুটভুটি ধরা হয়েছে তাতে সব বৈধ জোতকাঠই ছিল। অথচ আমাকে ডেকে এনে রেঞ্জ অফিসারের নির্দেশে বিট অফিসার মারধর করেন।” পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ অভিযুক্ত রেঞ্জ অফিসার ও বিট অফিসার নারায়ণ রায়ের কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে। এরপরই বিক্ষোভ তুলে নেন কাঠ ব্যবসায়ীরা। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক বাড়লেও এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি রেঞ্জ অফিসার বা অভিযুক্ত বিট অফিসার। ফলে বন দফতরের তরফে সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।