মান ভাঙতেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের সমর্থনে প্রচারে নেমে পড়লেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়। মিছিলে নেমে খগেশ্বর বললেন, রাজগঞ্জে (Rajganj) এর আগেও বিজেপিকে জিততে দিইনি। এবারও জিততে দেব না। আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

বাবলু রহমানঃ জলপাইগুড়ি জেলার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অশান্তির অবসান ঘটল অবশেষে। রাজগঞ্জের (Rajganj) বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy) সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই থাকছেন।

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন খগেশ্বর রায় (Khageswar Roy)।। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ায় তিনি জেলা চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার কথাও জানিয়েছিলেন। তাঁর সমর্থনে একাধিক নেতা-কর্মীরাও পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার রাতে তিনি সরাসরি ফোনে কথা বলেন খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে। সেই কথোপকথনেই বরফ গলতে শুরু করে। নেত্রীর আশ্বাসে অভিমান অনেকটাই দূর হয় প্রবীণ এই নেতার।

পরের দিন বেলাকোবার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে খগেশ্বর রায় জানিয়ে দেন, সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। তিনি দল ছাড়ছেন না, বরং আগের মতোই দলের হয়ে কাজ করবেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, দিদির ফোন পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ এবং দল যে দায়িত্ব দেবে, তা পালন করবেন।

উল্লেখ্য, রাজগঞ্জে এবারের প্রার্থী করা হয়েছে অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন-কে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

এদিন খগেশ্বর রায়ের বাড়িতে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ, সহ-সভাপতি চন্দন ভৌমিকসহ একাধিক নেতা-কর্মী। মহুয়া গোপ আবেগপ্রবণ হয়ে খগেশ্বর রায়কে ‘অভিভাবক’ বলেও উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনি জেলা চেয়ারম্যান পদেই থাকছেন।

সব বিতর্ক মিটিয়ে খগেশ্বর রায় এখন নির্বাচনী ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজগঞ্জে স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) পাশাপাশি দলের অন্যান্য প্রার্থীদের জেতাতে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবেন।শে

ষমেশ, এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিল— রাজনীতিতে মতভেদ থাকলেও দলীয় আনুগত্যই শেষ কথা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে কর্মীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে খগেশ্বর রায় যেন বুঝিয়ে দিলেন, লড়াইয়ের ময়দানে তিনি এখনও সমানভাবে সক্রিয়।


