সাহেনা পারভীন: জলপাইগুড়ি জেলায় এক মানবিক উদ্যোগের নজির গড়লেন জেলা সংখ্যালঘু তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মিজানুর রহমান। নিজের জন্মদিনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি তা উদযাপন করলেন সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে। এদিন তিনি পৌঁছে যান সাজু তালুকদারের পরিচালিত একটি প্রতিবন্ধী আশ্রমে, যেখানে আশ্রিতদের সঙ্গে কাটান এক স্মরণীয় দিন।

বর্তমান সময়ে জন্মদিন মানেই যেখানে আড়ম্বর, জাঁকজমক এবং ব্যক্তিগত উদযাপন—সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মিজানুর রহমান বেছে নিলেন এক ভিন্ন পথ। সমস্ত চাকচিক্য থেকে দূরে সরে তিনি আশ্রমের বাসিন্দাদের সঙ্গে সহজ-সরল পরিবেশে মিশে যান। তার এই উদ্যোগ শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রকাশ।

আশ্রমে পৌঁছে তিনি সকলের সঙ্গে মিলিতভাবে কেক কাটেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজের হাতে আশ্রমের প্রতিবন্ধী মানুষদের কেক খাইয়ে দেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। সেই মুহূর্তে কোনও ভেদাভেদ ছিল না—ছিল শুধুই ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং মানবিক সম্পর্কের বন্ধন। আশ্রমের বাসিন্দারাও এই অপ্রত্যাশিত ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

যদিও এই পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অনেকটাই সংবাদমাধ্যমের প্রচারের আলো থেকে দূরে, তবুও শেষ পর্যন্ত সেই বিশেষ মুহূর্তগুলি ক্যামেরাবন্দী হয়ে যায়। উপস্থিত কিছু মানুষের তোলা ছবি ও ভিডিও পরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং দ্রুতই ভাইরাল হয়ে ওঠে। ভাইরাল হওয়া সেই দৃশ্যগুলোতে দেখা যায় মিজানুর রহমানের আন্তরিকতা, যেখানে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে আশ্রমের বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন।

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ও ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই তার এই উদ্যোগকে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং সমাজের অন্যান্য মানুষদেরও এমন উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এই জন্মদিন উদযাপন শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছে এক সামাজিক বার্তা—সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উদাহরণ।

