বানারহাট ব্লকের এক মর্মান্তিক ঘটনা এখন এলাকাজুড়ে চর্চার বিষয়। একই গ্রামের এক যুবক ও যুবতীর ভালোবাসার গল্প, যার পরিণতি এতটা করুণ হতে পারে তা জানলে যে কেউ শিউরে উঠবেন।

জানা যায়, বহুদিন ধরেই ওই যুবক ও যুবতীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিষয়টি মেয়ের পরিবারে জানাজানি হতেই তারা দ্রুত মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। এতে ভেঙে পড়ে যুবকটি। প্রিয় মানুষকে হারানোর কষ্ট ভুলতে সে রোজগারের জন্য অন্য রাজ্যে কাজ করতে চলে যায়।

প্রায় আট বছর বাইরে কাটানোর পর যুবকটি আবার গ্রামে ফিরে আসে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় পুরনো সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সেই যুবতী আবার প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক আবার গভীর হতে থাকে।

এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ওই মহিলা তাদের কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিওগুলিকে হাতিয়ার করে তিনি যুবকটিকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্ল্যাকমেল এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে যুবকটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে।

শেষ পর্যন্ত আর সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বানারহাট থানার পুলিশ ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।

এরপর ১৫ নভেম্বর তার পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যদিও প্রথমে অভিযোগ নিতে কিছুটা গড়িমসি হয় বলে অভিযোগ, পরে বাধ্য হয়ে পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়।

অভিযোগকারীর আইনজীবী রঞ্জিত বর্মন জানান, আদালতের নির্দেশে থানার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকে। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

বৃহস্পতিবার তাদের জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়। আদালত ধৃত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান আইনজীবী রঞ্জিত বর্মন।

একটি ভালোবাসার সম্পর্ক, যা একসময় ছিল স্বপ্নের মতো—শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিল ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডিতে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, বিশ্বাসের অপব্যবহার আর মানসিক নির্যাতন কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
