সানি রায়, জলপাইগুড়ি: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যোগান ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার জেরে বিভিন্ন জায়গায় রান্নার গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। (LPG crisis in Jalpaiguri) তারই প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে জলপাইগুড়ি শহরেও।
গত কয়েক দিন ধরেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। বহু গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে সিলিন্ডার না পাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন। গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানি না মেলায় কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে শহরের বিভিন্ন মহল্লায়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলির দৈনন্দিন রান্নাবান্না কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বুধবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ির ইন্দিরা গান্ধী কলোনি এলাকার একটি (Jalpaiguri gas shortage) গ্যাস গোডাউনের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়তে দেখা যায়। বহু গ্রাহক সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে সিলিন্ডারের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে (LPG crisis in Jalpaiguri) জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার জেরেই বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই কয়েক দিন ধরে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেকেই আগে থেকে বুকিং করেও সময়মতো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনেক পরিবারকে ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য উপায়ে রান্নার চেষ্টা করতে হচ্ছে, যা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের উপর বিশ্বরাজনীতির প্রভাব নতুন কিছু নয়। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের পরিবহন এবং বাণিজ্যিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তার প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে।

আলুর দামে ধসের আশঙ্কা চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে কৃষকদের। এখন জমি থেকে আলু তুলতেই ভয় পাচ্ছেন কৃষক।
তবে এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে। জলপাইগুড়ির বহু বাসিন্দাই আশা করছেন, খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আবার আগের মতো নিয়মিতভাবে রান্নার গ্যাস পাওয়া যাবে। ততদিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ নিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে শহরের বহু পরিবারের।

