সাহেনা পারভীনঃ ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকার শালবাড়ী এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চানাডিপা এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এমন দাবি উঠেছিল বিজেপির তরফে। এমনকি ১০০ থেকে ২০০ জন কর্মী দলবদল করেছেন বলেও প্রচার করা হয়। তবে বাস্তবে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই জানাল তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন এলাকায় একটি সভার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। তাঁদের দাবি, আসলে মাত্র তিনজন যুবক ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাময়িকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তারা ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, আমরা বুঝতে পারি ভুল হয়ে গেছে। তাই আজকে আমরা নিজেরাই বিজেপির পতাকা খুলে তৃণমূলের ঝাণ্ডা লাগিয়েছি। আমরা আবার তৃণমূলেই থাকব। তিনি আরও জানান, বিজেপির দাবি অনুযায়ী এত সংখ্যক মানুষ দলবদল করেননি, মাত্র তিনজনই গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক সামনে আসে। যাঁরা কয়েকদিন আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরাই এদিন নিজের হাতে বিজেপির ঝাণ্ডা ও ব্যানার খুলে ফেলেন এবং সেগুলি সযত্নে গুছিয়ে রাখেন। তাঁদের বক্তব্য এই পতাকা ও ফেস্টুন তারা নষ্ট করবেন না বরং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতেই সেগুলি ফেরত তুলে দেবেন।

এর মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তারা আবার নিজেদের পুরনো দলে ফিরে এসেছেন। এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি কমল রায় জানান, বিজেপি বিষয়টাকে অনেক বড় করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে এটা ছিল তিনজন ছেলের সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। তারা নিজেরাই ভুল বুঝে আবার দলে ফিরে এসেছে। একই সুর শোনা যায় তৃণমূল নেতা দীনেশ মজুমদারের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ১৫০ জন তো দূরের কথা, তিনজন ছেলে একটু রাগের মাথায় গিয়েছিল। আমরা আলোচনা করে তাদের অভিমান ভেঙে দিয়েছি, এখন তারা আবার দলে ফিরে এসেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে। অন্যদিকে এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারায় আস্থা রাখছেন। এদিনের সভায় ফের দলে যোগ দেওয়া কর্মীরা আগামী দিনে তৃণমূলের প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়ের সমর্থনে প্রচারে নামবেন বলেও জানান নেতৃত্ব। পুরো ঘটনাকে তৃণমূল ‘ভুল বোঝাবুঝির সাময়িক অধ্যায়’ বলেই ব্যাখ্যা করেছে। এই জয়েনিং সভায় উপস্থিত ছিলেন শালবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি নির্মল রায়, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং বানারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি অরবিন্দ রায় সরকার।




